ক্যান্সারকে দূরে রাখতে জীবনে যা করবেন এবং যা কখনোই করা উচিৎ নয়



বিশ্ব ক্যান্সার দিবস ফেব্রুয়ারি মাসের ৪ তারিখ । ১৯৩৩ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। জাতিসঙ্ঘ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংগঠন এবং বিভিন্ন দেশ সরকারিভাবে দিবসটি পালন করে। 

ক্যান্সার থেকে  মুক্ত থাকতে হলে প্রথমে জানতে হবে ক্যান্সার কী ?

পৃথিবীর সকল প্রাণীর শরীর অসংখ্য ছোট ছোট কোষের মাধ্যমে তৈরি। এই কোষগুলো একটা নির্দিষ্ট সময় পরপর মারা যায় এবং ঐ কোষগুলোর জায়গায় নতুন কোষ এসে জায়গা করে নেয়। সাধারনভাবে কোষগুলো এভাবেই পর্যায় ক্র্রমে চলতে থাকে। সাধারনভাবে বলতে গেলে যখন এই কোষগুলো কোনও কারণে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে তখনই ত্বকের নিচে মাংসের দলা অথবা চাকা দেখা যায়। একেই টিউমার বলে। এই টিউমার বিনাইন বা ম্যালিগন্যান্ট হতে পারে। ম্যালিগন্যান্ট টিউমারকেই ক্যান্সার বলে।

 

যে সকল অভ্যাস গুলো গড়ে তুলতে হবে

 

(১) বেশি বেশি টাটকা শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস করুন

বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে সবুজ, হলুদ এবং পাতাজাতীয় শাকসবজি অন্ত্র, পায়ুপথ, প্রোস্টেট, পাকস্থলী, শ্বাসযন্ত্র, স্তন এবং জরায়ুর মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে। এ জন্য বাঁধাকপি ও ফুলকপি বেশি উপকারী।

২. আঁশজাতীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন

অধিক আঁশজাতীয় খাবার ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।। এ জন্য গম, চাল,বাদাম,খেজুর,মসুরের ডাল, ভুট্টা, লাল আটা, গোলআলু, মটরশুটি, কিসমিস, আপেল, কমলা, টমেটো ইত্যাদি খাবার অধিক গ্রহণে ক্যান্সার প্রতিরোধ হতে সাহায্য করে।

৩. প্রতিদিন ভিটামিন ‘এ’ জাতীয় খাবার গ্রহণ করুন

শ্বাসনালী, পাকস্থলী, অন্ত্র, পায়ুপথ, প্রস্রাবথলি এবং জরায়ুর মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে ভিটামিন ‘এ’ জাতীয় খাবার। যেমন গাজর , পালং শাক ,মিষ্টি কুমড়া ,ডিমের কুসুম, দুগ্ধজাতীয় খাবার, মাছ, কলিজা, টাটকা ফলফলাদি ও সবুজ শাকসবজিতে প্রচুর ভিটামিন ‘এ’ পাওয়া যায়। মনে রাখবেন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ার চেয়ে ভিটামিন ‘এ’সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ অধিক উত্তম।

৪. প্রতিদিন ভিটামিন ‘সি’ জাতীয় খাবার অধিক গ্রহণ করুন

 ভিটামিন ‘সি’ যেসব অঙ্গের ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে তার মধ্যে রয়েছে মুখ, অন্ননালী, অন্ত্র, পাকস্থলী, পায়ুপথ ও জরায়ুর মুখ। ভিটামিন ‘সি’সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে আমলকী, আমড়া, আম, পেয়ারা, ফুলকপি, কমলা, লেবু, কাঁচামরিচ, পেঁপে, টমেটো ইত্যাদি।

৫. শরীরের ওজন বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করুন

চিকন মানুষের তুলনায় মোটা মানুষের ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। এ জন্য নিয়মিত ব্যায়াম (হাঁটার অভ্যাস বেশ উপকারী) এবং অধিক ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।

যে সকল অভ্যাস গুলো পরিহার করতে হবে

১. মদ্যপান বা ধূমপান থেকে বিরত থাকুন ।  

২. পান-সুপারি জর্দা, তামাকপাতা খাওয়া বন্ধ করা ।  

৩. উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।

৪. অতিরিক্ত লবন দেওয়া খাবার গ্রহণ না করা ।

৫. আচার, কাসন্দ, শুঁটকি কম পরিমানে গ্রহণ করা ।

ক্যান্সারের কিছু সতর্কীকরণ লক্ষণ

১. খুব ক্লান্ত বোধ করা,অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমা।

২. কোনো ক্ষত না শুকানোর প্রবণতা।

৩. ধীরে ধীরে ক্ষুধা কমে যাওয়া

৪. শরীরের যে কোনজায়গায় চাকা বা দলা দেখা দেয়া

৫. পায়খানা প্রস্রাবের অভ্যাসের পরিবর্তন।

পেটের অজীর্ণতা কিংবা ঢোক গিলতে অসুবিধা।

৬. অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ।

৭. বিরক্তিকরণ অবিরত কাশি কিংবা গলা বসে যাওয়ার প্রবণতা।

তা ছাড়া,
ক্যান্সার নির্ণয়ে নিয়মিত মেডিক্যাল চেকআপ করা। অন্তত বছরে একবার মেডিক্যাল চেকআপ হওয়া আবশ্যক। কোনো কারণে ক্যান্সার বিষয়ে প্রশ্ন দেখা দিলে,ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা আবশ্যক ।

ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয়

  •  ১.  প্রতিদিন ব্যায়াম এবং এক ঘণ্টা  মত হাঁটার অভ্যাস করা ।
  •  ২. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা;
  •  ৩. ধূমপান, তামাক, জর্দা, ইত্যাদি তামাকজাতীয় দ্রব্য পরিহার করা;
  •  ৪. মদপান বর্জন করা;
  •  ৫. বাজারের বিভিন্ন ধরনের পানীয় ও চিনিসমৃদ্ধ পানীয় বর্জন করা;
  •  ৬. কৃত্রিমভাবে সংরক্ষিত খাবার পরিহার করা;
  •  ৭. বেশি বেশি ওষুধ সেবন সম্পর্কে সতর্ক থাকা;
  •  ৮. টাটকা শাকসবজি  বেশি বেশি খাওয়া;
  •  ৯.  উদ্ভিজ খাবার ও ফলফলাদি বেশি বেশি খাওয়া;
  •  ১০. লাল গোশত (গরু, ছাগল, মহিষ) এবং কৃত্রিমভাবে সংরক্ষিত খাবার কম খাওয়া;

 


Post a Comment

0 Comments